জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনে মাছ কেনাবেচা – bnewsbd.com

বিজ্ঞান প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

ভোরের ডাক ডেস্ক : রাজধানীর কারওয়ানবাজার পাইকারি মাছের বাজার। ভোর ৪টা থেকেই আড়তদার, পাইকার আর ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে আঙুলে টিপে, দেখে-শুনে যাচাই-বাছাই করে যারা স্বাদের মাছ কিনতে চান তাদের দেখা মেলে এখানে। কিন্তু করোনাকালে অনেক ক্রেতা আসছেন না বাজারে। এমনকি মহল্লার পাশের কাঁচাবাজার কিংবা সুপার শপেও পা মাড়াচ্ছেন না বহু ক্রেতা। তাদের মতে, মাছবাজার মানেই ভিড় আর মানুষে মানুষে গাদাগাদি। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরে থাক, পানি-কাদায় প্যাচপ্যাচে পথ মাড়িয়ে হাঁটাই মুশকিল। অথচ শৌখিন এসব ক্রেতা চান সেরা মাছ। তাহলে উপায়? 

বাজারের এমন কোলাহল আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যাদের ভালো লাগে না, তাদের ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন মাছ বাজার। আঙুলের ক্লিকে অনলাইনে ছবি দেখে মাছ ও দাম পছন্দ হলেই শুধু আদেশের অপেক্ষা। নদী-খাল বিলের মাছ পৌঁছে যাবে একেবারে বাসা-বাড়িতে। শুধু তা-ই নয়, চাহিদা অনুযায়ী আছে কেটে-বেছে নেয়ার সুযোগ।

রাজধানীতে বেশিরভাগ মাছ আসে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে। আড়তদারদের চাহিদা অনুযায়ী জেলে ও মাছের খামার থেকে স্থানীয় পাইকাররা মাছ পাঠান রাজধানী ঢাকায়। সেখান থেকেই  ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে অনলাইনে অর্ডার নেন উদ্যোক্তারা। পাওয়া যায় নদীর মাছ, খাল-বিলের মাছ এমনকি হাওরের মাছও। চাষের মাছের চেয়ে নদীর মাছের চাহিদা বেশি বলে জানান তারা। 

পরিবাগ এলাকার একজন অনলাইন মাছক্রেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, অনেক মানুষই মাছ চেনে না। বিশেষ করে ঢাকার পুরানো বাসিন্দারা, যাদের গ্রামে থেকে অভিজ্ঞতা কম তাদের পক্ষে বাজার থেকে যাচাই করে মাছ কেনা মুশকিল। তারা বাজারে গিয়ে বুঝতে পারে না কোন মাছ ভালো বা মন্দ। এর বাইরে যারা অফিস আদালত নিয়ে ব্যস্ত, তাদের অবলম্বন হয়ে উঠেছে অনলাইন কেনাকাটা। এর সঙ্গে চলতি বছর যোগ হয়েছে করোনার কঠিন  বাস্তবতা।  এমন সময়ে যেখানে সঙ্গনিরোধই প্রধান দায়িত্ব, সেখানে মাছবাজারে যাওয়ার আর ফুরসত কই? তাই অনলাইন থেকে মাছ কেনার এমন সুযোগ লুফে নিচ্ছেন তারা। আর মাছের মান ও দামের দিক থেকে সন্তোষ অনলাইনের প্রতি আকর্ষণে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। 

জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইনে মাছ কেনাবেচাবেসরকারি খাতের অবসরপ্রাপ্ত আরেক ক্রেতা জানান, বাজারে গিয়ে দেখেশুনে মাছ কেনা বেশ শ্রমসাধ্য ব্যাপার। তাই পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী অনলাইন থেকেই মাছ কেনেন তিনি। সেক্ষেত্রে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় বিক্রেতার প্রতিশ্রুতির উপর। উদ্যোক্তারা পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে পারলে অনলাইন ব্যবসার সুযোগ আরো বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি। 

অনলাইন মাছবাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় দুজন উদ্যোক্তার। যারা করোনার এই সময়ে অনলাইনে মাছ বিক্রির অদম্য প্রচেষ্টা নিয়েছেন, হয়েছেন অনেকটাই সফল। এদেরই একজন কোয়ালিটি ফিস বাজারের উদ্যোক্তা মো. মুক্তার হোসেন। তিনি বলেন, করোনাকালে বাজারে আসার ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে ঝুঁকছে মানুষ। তবে বেড়েছে উদ্যোক্তার সংখ্যা আর প্রতিযোগিতা। এমন অবস্থায় একবার ক্রেতার আস্থা হারালে নষ্ট হয় সুনাম আর বাজার দুটোই। বাপ-দাদাদের আমল থেকেই মাছ বেচাকেনার দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্য এমন উদ্যোগে উৎসাহ জুগিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতা সন্তুষ্টিই তার লক্ষ্য। কোনো কারণে ক্রেতা অসন্তুষ্টির কথা জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাছ বদলে দেন কোনরকম আপত্তি ছাড়াই। তার মতে, একজন ক্রেতা খুশি হলে তিনিই প্রচারণার কাজটি করে দেন, বাড়ে ক্রেতার সংখ্যা। 

তবে অনলাইনে মাছ কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদেরও খেয়াল রাখতে হবে, আপনি  যেখান থেকে কিনছেন, তা নির্ভরযোগ্য কোনো পেইজ বা ওয়েবসাইট কি-না। পণ্যেরমান সম্পর্কে খোঁজ-খবর ভালো করে জেনে নেয়া, ডেলিভারি সংক্রান্ত বিষয় বুঝে নেয়া ক্রেতা হিসেবে আপনার দায়িত্ব। অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা যাচাই করে নিতে হবে। লোভনীয় অফার পেলেই কিনে বসবেন না যেন, তা সঠিকভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। আর ক্যাশ অন ডেলিভারি নিলে পণ্য বুঝে নেয়ার সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। সবকিছু মেনে চলার পরও যদি কখনো দেখেন আপনি যথাযথ পণ্যটি ডেলিভারি পাননি, সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার অভিযোগ জানান। কারণ অনেক সময় ডেলিভারিম্যানের ভুলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অভিযোগ করার পর যদি সমাধান না পান বা কখনো প্রতারণার মুখে পড়েন, তবে কেনার রশিদ, প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ করার নিয়ম, ফরম, ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন নম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ওয়বেসাইটে আছে। ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ জানাতে পারেন পুলিশকেও। সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সাইবার ইউনিট থেকে আপনি সাহায্য নিতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করার শাস্তির বিধান রয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফরম ফিস বাংলার উদ্যোক্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সময়মতো ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেয়াই চ্যালেঞ্জ। কেন না কাঁচাপণ্যের মধ্যে মাছ দ্রুত পচনশীল। তবে উদ্যোক্তার আন্তরিক ইচ্ছাই এমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার হাতিয়ার বলেও বিশ্বাস তার।  

উদ্যোক্তারা বলছেন, মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করে মাছ বিক্রির পরিমাণ। একেকজন উদ্যোক্তা প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ ডেলিভারিতে প্রায় ৫০ কেজি মাছ বিক্রি করেন অনলাইনে। করোনাকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্রেতা চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। তবে ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে সামনের দিনগুলোতে অনলাইন প্ল্যাটফরমে মাছের মতো পণ্যের বিক্রি অনেক বাড়বে। তবে এজন্য দরকার উদ্যোক্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

লেখক: সাজিদ রাজু, সংবাদকর্মী।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *