উদ্যোগে কাজ হচ্ছে না, বেড়েই চলেছে চালের দাম – bnewsbd.com

অর্থ ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

epsoon tv 1

সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার পরও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ঢাকার বাজারে সব মানের চালের দাম এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখতে পাওয়া গেছে। 

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।  আর পাইকারি বাজারের খবর হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ সংকট ও আমদানি না থাকায় চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী।

সরকারের পক্ষ থেকে এর পেছনের কারণ হিসেবে করোনা ও বন্যাকে মনে করা হলেও চলতি বাজার পরিস্থিতির জন্য মিল মালিক এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে জানুয়ারি মাসে সরকার চাল আমদানি শুল্ক ৬২ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ১০ লাখ টন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ১০ লাখ মোট ২০ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সরকারের খাদ্যশস্য আমদানি পরিস্থিতি চিত্রে দেখা গেছে, বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরকারি উদ্যোগে দেশে চাল আমদানি হয়েছে ২ দশমিক ১১ হাজার মেট্রিক টন। এদিন বেসরকারিভাবে কোন চাল আমদানি হয়নি। তবে গত ১ জুলাই ২০২০ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১- এ সময়ে দেশে সরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে ৭১ দশমিক ৭৭ হাজার মেট্রিক টন, বেসরকারিভাবে আমদানি হয়েছে ১৪৬ দশমিক ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। এর আগে একই সময়ে সরকারি উদ্যোগে কোন চাল আমদানি হয়নি।  

এদিকে পরবর্তী মৌসুমে ধানের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি অধিদপ্তর। তখন বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট বা নাজির বা সরু চাল প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। বাজারে এ মানের প্রতি কেজি চাল ৫৮ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা। আর গত মাসে ছিল ৫৫ থেকে ৬৪ টাকার মধ্যে। গত বছর এই সময়ে দাম ছিল ৫২ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দামও কেজিতে এক-দুই টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। 

পাইজাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, গত বছর এই সময়ে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। 

সাধারণ মানের চাল বা মোটা চলের মধ্যে স্বর্ণা, চায়না ইরি প্রতি কেজি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  যা গত বছর ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। 

চালের বাজার পরিস্থিতি বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান রাইজিং বিডিকে জানান, ‘সরকারের গুদামে কত চাল আছে এবং প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে কত চাল প্রয়োজন হচ্ছে। এটি আগে জানা প্রয়োজন। যদি সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চাল থাকে এবং প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে এবং খোলা বাজারের চাহিদা মত পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করা হয়, তাহলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কোন সুযোগ থাকবে না।’

সরকারকে এ পদ্ধতি পরীক্ষা করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের আমদানির ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পায় অথবা উৎপাদন বাড়ার ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ে, এ সময় সরকারকে তার কার্যক্রম বাড়াতে হবে বা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে সব সময় একটি নির্দিষ্ট মূল্য (ফ্লোর প্রাইজ) ঠিক করতে হবে। সে মূল্যের প্রতি সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে, ফ্লোর প্রাইজের দিকে যদি বাজার মূল্য যায় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

‘আর এ ধরনের উদ্যোগের করতে পারলে সিন্ডিকেট বাপ-বাপ করে ভেঙে যাবে।  যদি সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চাল থাকে এবং সরকার যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত চাল বাজারে সরবরাহ করতে পারে, তাহলে বাজারে সিন্ডিকেট থাকার সুযোগ নাই’, বলেন সাবেক দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

এদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছর দেশের ৩৫টি জেলায় বন্যার কারণে আমন ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ক্ষতি হিসেবে বলা হয়েছে, অন্তত এক লাখ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। ফলে গত মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন কম হয়েছে। তবে সরকার দাবি করছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারের মজুদ ঠিক ছিল। একই সময়ে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ বিতরণের কারণে চালের ঘাটতি দেখা দেয়।

সরকারি মজুদ পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত খাদ্যশস্যের সরকারি মোট মজুদ ছিল ৬ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ছিল ৫ দশমিক ৩৯ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ১ দশমিক ২৬ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর একই সময়ে চলের মজুদ ছিল প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি।

সম্প্রতি বাজারে বেড়ে যাওয়া চাল, আলু ও পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ উদঘাটনের জন্য মাঠ পর্যায়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, সরকারের কাছে মজুদ না থাকায় চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। চালের বাজার বাড়ার একমাত্র কারণ সরকারের গুদামে চাল না থাকা। যে সুযোগটা মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা নিয়েছে। এই সিন্ডিকেট বাজারে দাম বৃদ্ধি করছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) গবেষণায় দেখা গেছে, এ বছর চালের অস্বভাবিক দামের প্রধান কারণ মজুদ প্রবণতা। ব্যবসায়ীদের এমন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে এর পেছনে করোনায় খাদ্য সংকটের একটি গুজব কাজ করেছে বলেও তারা মনে করেন।

বিএআরসির গবেষণায় উঠে এসেছে, গত  বছরে (২০১৭ থেকে ২০১৯) আমন মৌসুমে প্রতি কেজি চালে মিল মালিকরা লাভ করেছে চার টাকা ৬০ পয়সা থেকে সাড়ে ৯ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২০ এ তিন বছরে বোরোর চাল প্রক্রিয়ায় মিল মালিকরা লাভ করেছে চার টাকা ৭০ পয়সা থেকে আট টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত। গত ২৬ জানুয়ারি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে সরকারের ওএমএস সেবা কার্যক্রমে বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরে ভ্রাম্যমাণ ৪টি ট্রাকের মাধ্যমে মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাকপ্রতি দৈনিক আরও ৩ মে.টন করে ১২ মে.টন চাল বিক্রি করছে খাদ্য অধিদপ্তর। 

উল্লেখ্য যে, ওএমএস খাতে ঢাকা মহানগরে এ, বি এবং সি ক্যাটাগরি ভিত্তিতে ১২৪টি বিক্রয়কেন্দ্রে দৈনিক ১-১.৫ মেট্রিক টন আটা এবং ১ মেট্রিক টন চাল বিক্রি হচ্ছে।  একইসাথে শ্রমঘন ৪টি জেলায় (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর) মোট ১৪৭টি কেন্দ্রে দৈনিক ২ মেট্রিক টন করে আটা এবং ১ মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি হচ্ছে।  এছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে মোট ৪৩২টি বিক্রয় কেন্দ্রে দৈনিক ১ মেট্রিক টন করে চাল এবং ১ মেট্রিক টন করে আটা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ইনোভেশন কার্যক্রম এর আওতায় সচিবালয় প্রাঙ্গণে দৈনিক ২ মেট্রিক টন এবং মতিঝিল ও আজিমপুর এলাকায় দৈনিক কেন্দ্র প্রতি ১ মে.টন করে প্যাকেট আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

epsoon tv 1

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *