জ্ঞান সৃজন করতে গেলে গবেষণা অত্যাবশ্যকীয়- ইবি উপাচার্য – bnewsbd.com

শিক্ষা-সংস্কৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

ইবি সংবাদদাতা:  অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৯ তারিখ উপাচার্য হিসেবে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? করোনার ধকল কাটিয়ে ওঠা, গবেষণায় গতিশীলতা, শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখা এবং উদার ও অসা¤প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত করতে তার ভাবনার কথা জানাতে সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক ভোরের ডাকের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাকিব। 

ভোরের ডাক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহন করার পরে কোন বিষয়গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? 

ড. শেখ আবদুস সালাম: আমরা করোনাকালীন একটা ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনলাইনে পঠন-পাঠনে সবটুকু দেয়ার চেষ্টা করছি। যখন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে তখন এ স্রোতকে আরও গতিময় করা। জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে তাল রেখে এগিয়ে চলাই লক্ষ্য। আর আগামীতে আমাদের কিছু ফিজিক্যাল ফ্যাসেলিটি তৈরি করা যেমন: ছাত্রদের হল, শিক্ষকদের থাকার ব্যবস্থা। এই কাজ গুলোকে অতিদ্রুত শুরু করাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

ভোরের ডাক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? ৪ বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান? 

ড. শেখ আবদুস সালাম: ৪ বছরে কোথায় নিতে পারবো তা জানি না। তবে আমি থাকি আর যেই থাকুক যে কাজ গুলো বললাম এগুলোকে চালিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কোথাও ব্যত্যয় আছে কি না তা চিহ্নিত করে শিক্ষা ও গবেষণার স্রোতকে যুগের সাথে মিলিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আইন কানুন চর্চার ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়মকানুনের ভেতরে নিয়ে আসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রটোকল গুলো দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া। আপাতত এসবই। ৪ বছর পরে পরিস্থিতি দেখা যাবে।

ভোরের ডাক: গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। গবেষণাকে যুগোপযোগী করার জন্য বিশেষ কোনো ভাবনা আছে কি?

ড. শেখ আবদুস সালাম: করোনার কারণে আমি এখন পর্যন্ত আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী কারো সাথে ওভাবে বসতেই পারিনি। যেদিন বসার সুযোগ হবে সেদিন প্রথম আহ্বান থাকবে শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিছু কিছু ফ্যাসিলিটি আমাদের ইতিমধ্যে রয়েছে। যেমন: সেন্ট্রাল ল্যাব। এখন আমরা শুধু সেন্ট্রাল ল্যাবে জায়গা দিলে তো হবে না। সেখানে যুগোপযোগী সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে হবে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষাদান না সেখানে জ্ঞান সৃজন করতে গেলে গবেষণা অত্যাবশ্যকীয়৷ পাঠদান তো কলেজ পর্যায়েও হয়। এখানে জ্ঞান সৃজন ও গবেষনা পার্থক্য করে দেয়৷ আর এ কাজটি যারা করবে তারা হচ্ছে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের কে উদ্বুদ্ধ করাও একটি বড় দায়িত্ব।   

ভোরের ডাক: করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ক্ষেত্রেও একটা ধকল এসেছে, এ ধকল থেকে উত্তোরনের জন্য কোনো পরিকল্পনা আছে কি? 

ড. শেখ আবদুস সালাম: ধকলের সময় টিকে থেকে ধকলটাকে ঠেকাতে হয়। এসময় স্বাপ্নিক হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরে যখন স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে তখন আস্তে আস্তে সামনের দিকে যেতে হবে। পরবর্তীতে নিজেদের ভিতরে হিসাব নিকাশ করে যতোটুকু পিছিয়েছি ততটুকু এগিয়ে নিতে হবে। এরপর সমন্বিতভাবে সকল বিভাগ, ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পলিসি মেকার এদের মতামত নিয়ে জাতীয় নীতির যে রিফ্লেকশন সেটাকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। কখনো কখনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে প্রতিবন্ধকতার ভিতরেই পথ করতে হয়। আমরা এখন ওরকম একটা পর্যায়ে আছি। 

ভোরের ডাক: চাকরির বাজারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে রাখতে কোনো পদক্ষেপ নিবেন কিনা?

ড. শেখ আবদুস সালাম: আসলে রাতারাতি তো কিছু একটা পরিবর্তন করতে পারবোনা। কর্মের ব্যাপারটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ করে দিতে হবে। আমাদের কাজ হচ্ছে ওই কর্মে যারা অংশগ্রহণ করবে এমন হাতগুলো তৈরি করা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক একুশ শতকের যুগোপযোগী বিভাগ আছে। এ থেকে সুনির্দিষ্ট পঠন-পাঠনের মাধ্যমে চেষ্টা করব আমাদের ছেলেদের দুনিয়ার চাকরির বাজারে শুধু চাকরি করতে হবে তা না, চাকরি দেয়ারও উপযোগী করতে হবে। তারা উদ্যোক্তা হবে। বিষয়টা এরকম নয় যে, এইটুকু করো তাহলে তোমরা এত টাকা বেতনের চাকরি পাবে। শিক্ষকরা ওদের মন্ত্র দেবে, উদ্বুদ্ধ করে পথ দেখানো এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করবেন বলে মনে করি। 

ভোরের ডাক: শিক্ষার্থীদের উদার ও অসা¤প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত করার জন্য ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

ড. শেখ আবদুস সালাম: বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসেপ্টের মধ্যেই উদারতা আছে। অসা¤প্রদায়িকতা আছে। এখানে কে কোন ধর্মের সেটা বিষয় না। এখানে সার্বজনীনতা আছে। এ কারণে নাম হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। সেদিক থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে অনেক এগিয়েছে। 

ভোরের ডাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনি কি কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন? বা কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কিনা?

ড. শেখ আবদুস সালাম: না, ওভাবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিনা। সবাইকে নিয়ে একসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই হলো একজন আদর্শ অভিভাবকদের কাজ। তবে যেমন ধরুন, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার এর কাজগুলো দীর্ঘ দিন ধরে আমার একাই করতে হচ্ছে। নিশ্চয়ই আমার উপর চাপটা বেশি পড়ছে। অচিরেই যখন এনারা আসবেন তখন এই কাজ গুলো মসৃণ হবে।

ভোরের ডাক: উপাচার্য পরিবর্তন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়? এ বিষয়গুলোকে কিভাবে পরিচালনা করছেন? 

ড. শেখ আবদুস সালাম: কি পরিবর্তন দেখা যায়, এটা আমি বলতে পারব না। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে হ্যাঁ সেখানে আমার একটা কমফোর্ট জোন থাকতে হবে। তাছাড়া শুধু আমার ইচ্ছা তা নয়। এসব বিষয়ে আমার পরেও সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, আমার অন্যান্য কলিগ আছে। তাদের পরামর্শ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা ভাল হয় আমি সেভাবেই সামনের দিকে যাব।

ভোরের ডাক: সময় দেয়ার জন্য ভোরের ডাক পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। 

ড. শেখ আবদুস সালাম: ভোরের ডাক এবং আপনাকেও ধন্যবাদ। 

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *