বাতিল হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বয়স প্রবিধানমালা – bnewsbd.com

শিক্ষা-সংস্কৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

নাজিউর রহমান সোহেল : দেশে পাকিস্তান আমলের তৈরি করা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত’ প্রবিধানমালা বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ আলোকে বিধানটি বাতিল করতে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রবিধানটি বাতিলের জন্য পরীক্ষান্তে মতামত দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চূড়ান্তভাবে প্রবিধানটি বাতিল করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্রছাত্রী চাইলেই আর বয়স কমিয়ে ভর্তি হতে পারবে না। সে সুযোগ বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, ফলে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থীকে জন্ম নিবন্ধন সনদ দাখিল করে তার ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এই সনদ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের সকল পরীক্ষার নিবন্ধন ও ফরম পূরণ করতে হবে। কোনভাবেই জন্ম নিবন্ধন সনদের বাইরে বয়স নির্ধারণ করা যাবে না জানা গেছে।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মো. বেলাল হোসাইন ভোরের ডাককে বলেন, সব দেশেই ৬ বছরের বেশি শিশুদের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। শিক্ষানীতি ও আন্তজার্তিক মান বজায় রেখে আমাদের দেশেও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় বয়স ছয় বছরের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছর আদালতের নির্দেশে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে বয়সের সীমা তুলে দেয়া হয়েছে। আগামীতে এটি থাকবে কিনা আমরা বসে নির্ধারণ করবো। বয়সের প্রবিধান বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শিক্ষাবোর্ডের বিষয়। জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের সকল নিবন্ধন হওয়া উচিত মতামত দিয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সভা গত ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জেনারেল রেজিষ্ট্রার মানিক লাল বনিক জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অভিযোগ রয়েছে, কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনের এই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ভর্তির সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হলেও পাবলিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চম, অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারন হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং শিক্ষাগত সনদে জন্ম তারিখের মধ্যে গরমিল দেখা দেয় এবং তা জটিলতায় রূপ নেয়। 

জানা গেছে, সরকারের শিক্ষানীতি-২০১০ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হবে ৬ বছরের উপরে। সে হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর ১১ বছরের বয়সে পিএসসি, ১৪ বছর বয়সে জেএসসি এবং ১৬ বছরের বেশি বয়সে এসএসসি পাশ করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, শিক্ষানীতি এবং ভর্তি নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং পাবলিক পরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করা হয়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে পাবলিক পরীক্ষার সনদ দাখিল করে বয়স কমানোর জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ কথিত সংশোধনের আবেদন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বয়স দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত কমানোর নীতিবর্র্হিভূত প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রতিমাসে একটি জেলায় এ ধরণের আবেদনের সংখ্যা চার থেকে পাঁচশত হয়ে থাকে। এতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ওপর অযথা কাজের চাপ বেড়েই চলছে। মূল কাজ ব্যাহত হয় এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন বাস্তবায়ন বিঘিœত হয়। এই নীতিবর্হিভূত প্রবণতা রোধকল্পে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু তাতে অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনার অনুরোধ জানায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পাবলিক পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশনকালে এর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং নীতিবর্হিভূতভাবে শিক্ষার্থীর বয়স কমানোর প্রবণতা রোধকল্পে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনী নির্দেশনা প্রদান করার সুপারিশ করা হয়।

জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অধীনে ১৯৬৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকা গেজেটের  প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত  একটি প্রবিধানে ১২ বছরের নিচে কোন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না মর্মে উল্লেখ রয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ভর্তি নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রবিধান কার্যকারিতা হারালেও কোন কোন শিক্ষক এমনকি শিক্ষাবোর্ডের কোন কোন কর্মকর্তা মনে করেন, এই প্রবিধান অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী ১৪ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে। এটি একটি ভুল ব্যাখ্যা। যা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০এর পরিপন্থী। এই ভ্রান্তি নিরসনের জন্য উপর্যুক্ত প্রবিধান বাতিল করা প্রয়োজন মর্মে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। ওই সভায়সভায় সিদ্ধান্ত হয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, সংরক্ষণ ও পাবলিক পরীক্ষার  রেজিষ্ট্রেশনকালে এবং ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং নীতিবর্হিভূতভাবে শিক্ষার্থীর বয়স কমানোর প্রবণতা রোধকল্পে মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অধীনে ১৯৬৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ঢাকা গেজেটের  প্রথম খণ্ডে প্রকাশিত শিক্ষার্থীর ভর্তি এবং বদলি সংক্রান্ত প্রবিধানটি পরীক্ষান্তে বাতিল করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা ১১ বছরের ঊর্ধ্বে নির্ধারণ করে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একট প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনেরর গ্যাড়াকলে পরে অনেক শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছিল না। কারণ, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ৬+ বছর। এই হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হতে হবে ১১+ বছর। কিন্তু মুন্সিগঞ্জের মিজানুর রহমানের সন্তানের জন্ম ২০১১ সালের ৩০ জুলাই। এই হিসেবে ওই শিক্ষার্থীর বয়স হচ্ছে সাড়ে ৯ বছর। সরকারের ওই সিদ্ধান্তের কারণে অনলাইনের সফটওয়্যারে ওই শিক্ষার্থীর আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মিজানুর রহমান ২০১৭ সালের জারি করা ভর্তির নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেধে দেয়া ১১ বছরের ঊর্ধ্বে নির্ধারণ করা নীতিমালাটি গত ২৯ ডিসেম্বর স্থগিত করেছেন আদালত।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *