করোনার প্রভাব-শিক্ষার্থীদের ‘শিখন’ ঘাটতি সনাক্তে সমীক্ষা হচ্ছে – bnewsbd.com

শিক্ষা-সংস্কৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

নাজিউর রহমান সোহেল : বিশ্বের দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়া, সাব সাহারান এবং আরব দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির সংকট বহুদিনের। জাতিসংঘের এক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে প্রতি ১০ জন স্কুল শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনের শিখন দুর্বলতা রয়েছে; অর্থ্যাৎ বাস্তবিক অর্থে কিছুই শিখছে না। এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে গত এক বছর ধরে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্বল শিখন পদ্ধতির তালিকায় থাকা বাংলাদেশে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে গত বছর বার্ষিক পরীক্ষা নেয়নি সরকার। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের (বাড়ির কাজ) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। এ অবস্থায় ভার্চুয়াল পাঠদান শেষে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, কোথায় কোথায় শিখন ঘাটতি ও দুর্বলতা আছে তা সনাক্ত করতে দেশজুড়ে সমীক্ষা শুরু করছে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্যাম্পলিং পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশের দুই হাজার স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনলাইন জরিপের মাধ্যমে এ সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। আর এ কর্মসূচিটি পরিচালনা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)। সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তিতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেডুর পরিচালক প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, সারা দেশের ২৭ হাজার স্কুলের মধ্যে ২ হাজার স্কুল স্যাম্পলিং করে নির্ধারণ করা হবে। হাওর, পাহার, চরাঞ্চলের স্কুলগুলোকে ক্যাটাগরি করে নির্ধারণ করা হবে। এই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির আশা করছেন তারা। সমীক্ষা কিভাবে পরিচালনা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেস টু ফেস সাক্ষাৎকার নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমরা সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতে পারছি না। অনলাইনেও কোশ্চেনিয়ারের মাধ্যকে সমীক্ষা করা হবে। দুই হাজার স্কুলের যেসব শিক্ষক অ্যাসাইনমেন্ট কাজে জড়িত ছিলেন তাদের মতামত নেয়া হবে। শিক্ষার্থী স্যাম্পেলিং ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রতি শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীর মতামত নিবো। আর প্রতি শ্রেণির পাঁচ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মতামত নেয়া হবে। তারপরেও অন্যরা মতামত দিতে চাইলে সুযোগ দেয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কিভাবে অনলাইনে  প্রশ্ন পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকদের সহায়তায় নির্বাচিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের লিংক পাঠানো হবে।

এর আগে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তরণের ক্ষেত্রে অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়নের যে কোনো প্রভাব থাকবে না। এ মূল্যায়ন মূলত শিক্ষার্থীদের কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়ে গেছে তা আমাদের বোঝার জন্য। যেন পরবর্তী ক্লাসে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করা যায়। বেডু সূত্র জানায়,  ফোকাস গ্রæপ ডিসকাশনের (এফজিডি) মাধ্যমে সমীক্ষার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা বেড়ে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট স্টোকহোল্ডার যারা ছিল অর্থাৎ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূলত লক্ষ্য করেই সমীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্যগুলো তুলে আনা হবে। তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি বা পাঠের দুর্বলতা যাতে দীর্ঘমেয়াদে থেকে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখার মতামত দিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, এমনেতেই দেশে শতকরা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রয়েছে যারা শিখন দুর্বলতা নিয়ে কয়েকবছর এক ক্লাস পার করে দেয়। পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হতে পারে। সে বিষয়টি শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতিকে ‘শিখন দারিদ্র্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্বব্যাংকের জরিপ বলছে, দেশের ৫৮ শতাংশ শিশু শিখন দারিদ্র্যের শিকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার দুর্বল মানের কারণে বাংলাদেশের একজন শিশুর ১১ বছরের স্কুলজীবনের সাড়ে চার বছর নষ্ট হয়ে যায়। তারা ১১ বছরে শেখে মাত্র সাড়ে ছয় বছরের পাঠ্যক্রমের সমান।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে এর ক্ষতি পোষাতে ৩০ কার্যদিবসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল সিলেবাস। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এই পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের বাসায় বসে বিষয়ভিত্তিক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (কাজ) দেয়া হয়। শিক্ষার্থী তা শেষ করে শিক্ষকের কাছে জমা দেয়। শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া, মূল্যায়ন, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীকে দেখানো এবং পরে প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *