নবগঙ্গা নদীতে ধান কাটার মহোৎসব – bnewsbd.com

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ধানের দেশ, নদীর দেশ, গানের দেশ, পাখির দেশ। এর প্রতিটা ক্ষেত্রেই বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি মিশে আছে একে অপরের পরিপূরক হয়েছে।  যার যতার্থ প্রমাণ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নবগঙ্গা নদী।

নদী, গান, ধান ও পাখিতে একাকার হয়ে মিশে আছে এখানে। উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত বিনোদপুর এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী  নবগঙ্গা নদটি নাব্য হারিয়ে আজ মরে যেতে বসেছে। বালুও পলি জমে ক্রমশ: ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিনত হয়েছে জরাজীর্ণ খালে। নদীর বুকে জেঁগে উঠছে  বিস্তীর্ণ চর।  স্থানীয়রা নদীর এই চর দখলে নিয়ে এখন করছেন চাষাবাদ। আর সেই চর এবছর পরিণত হয়েছে আবাদী ক্ষেতে। বোরধানের বিপ্লব ঘটেছে নদীর বুক জুঁড়ে। নদী বক্ষে এখন দোল খাচ্ছে পাকা ধান। আর বোরধানের এই সমারোহ নাব্য হারানো নবগঙ্গায় এনে দিয়েছে নবজাগরণ। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ আর কৃষকের কণ্ঠের ভাটিয়ালি গানে একাকার হয়ে কৃষক মেতেছে ধান কাটার মহোৎসবে আর এই গানে যেন সুর তুলেছে ধানের উপর দোল খাওয়া পাখিদের কিচির মিচির শব্দ।

উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে নবগঙ্গা নদী প্রবাহিত। নদী তীরবর্তী গ্রামবাসীরা জানান, এক সময়  নদীতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ ছিল। তা দিয়ে নিয়মিত চাষাবাদ করার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হতো। অনেকে নদীর পানিও পান করত। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না করায় নদীর তলদেশে পলি ও বালি জমে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জেঁগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। অনেকে আবার নদীর এ সকল যায়গা ভরাট করে বসত বাড়ি গড়ে তুলেছেন। নদীর অভয় আশ্রমে এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায়না। কারণ পানির অভাবে নদীতে মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে গেছে। বাধ্য হয়েই মৎস জীবিরা পেশা পরিবর্তন করে চলে গেছেন অন্য পেশায়। নবগঙ্গা নদীটি এক সময় ছিল প্রবল খরস্রোতা এবং নদী পাড়ের মানুষের কাছে ছিল মূর্তিমান আতংক। কিন্তু বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় বর্ষাকালে এদের ভয়াল রুপ আর চোঁখ পড়েনা। প্রমত্তা নবগঙ্গা নদীর ঢেউয়ের বাধভাঙ্গা স্রোতের মাতম এখন শুধুই স্মৃতি। উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত এ নদী পথে শিল্প নগরী খুলনায় এ নদীর মাধ্যমে খুব সহজেই যাতায়াতের সুযোগ ছিল।  পণ্যবাহী বড় বড় জাহাজ এ নদী পথে দেশের বিভিন্ন নৌ বন্দরে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। নাব্যতা কমে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে মরে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নবগঙ্গা। শুকিয়ে যাচ্ছে নদী ও আশে পাশের খাল-বিল। স্বাভাবিক পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ। চাষাবাদে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় নৌ চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছে উপজেলার সহস্রাধিক জেলে পরিবারের অসংখ্য খেটে খাওয়া মানুষ। যারা এক সময় এ নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত।  নবগঙ্গা নদীর বুকে পলি জমে জেঁগে উঠেছে বিশাল চর। জরাজীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে নদী। নৌকায় পাল তুলে মাছ ধরার দৃশ্য অথবা বড় বড় নৌকায় পণ্য বোঝায় দিয়ে গুন টেনে পরিবহন চলাচলের সে সব দৃশ্য কেবলই অতীত। নবগঙ্গার দুই পাড়ে জেঁগে ওঁঠা বিশাল চর জুড়ে হাজার হাজার একর জমিতে এ বছর আবাদ হয়েছে  বোরো ধানসহ রকমারি ফসল। অধিক ব্যায় সাপেক্ষ হলেও নদীতে ড্রেজিং এর মাধ্যমে খনন কাজ করে কৃষি ক্ষেত্রের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব বলে এলাকাবাসীর দাবী ছিল দীর্ঘ দিনের। সেই দাবী এখন বাস্তবায়নের পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নবগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজের জন্য ২শ’ প াশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। ধানকাটা শেষে হলেই খনন কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

১০ বছরের অধিক সময় ধরে মহম্মদপুর উপজেলার সীমান্তবর্ত্তী নবগঙ্গা নদীটি এখন পরিণত হয়েছে আবাদী ক্ষেতে। যে নদী এক সময় ভেঙ্গে চুরে গ্রাস করেছে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির ক্ষেত-খামার ও গাছপালা সেই রাক্ষুসী নদী এখন নদী পাড়ের মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এবং তাদের ভাগ্য উন্নয়নের একমাত্র সহায়ক এখন নবগঙ্গা নদী। নদীবক্ষের বিস্তীর্ণ চর জুড়ে এ বছর শত শত কৃষক ধান চাষ করেছেন। বাম্পার ফলনও হয়েছে। এলাকার কৃষক পরিবার গুলোতে চলে নবান্নের উৎসব অন্যদিকে নদী খননের খবরে জমি হারানোর ভয়ে মন ভারি করে আছেন অনেকেই। তবে অধিকাংশ মানুষের ধারণা নদী খননে এলাকার মানুষ অধিক উপকৃত হবে।

রতন মাঝি নামের এক স্থানীয় জেলে বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় আর আগের মত মাছ পাওয়া যায়না। তবুও বাপ দাদার পেশা ধরে রেখে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। স্থানীয় কৃষক জলিল শেখ বলেন, নদীতে চর পড়ায় আমরা পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেয়ে চাষাবাদ করে ভাল আছি। ক্ষেতে ধান কাটতে কাটতে কুতুব আলী নামের একজন কৃষক বলেন, নদীতি চর জাঁগায় আমরা ১০/১২ বছর ধরে চাষবাস করে খাচ্ছি, শুনছি এ বছর নদী ক্যাটে বড় করবি, তবে আমাগের উপায় কি হবি।  মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বলেন, নবগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজের জন্য ২শ’ প াশ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের চিঠিও  পেয়েছি। ধানকাটা শেষে হলেই খনন কাজ শুরু হবে। মাগুরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর ও মাগুরা-২ আসনের এমপি ড. শ্রী বীরেন শিকদার বলেন, নবগঙ্গা নদী খননের জন্য আমরা মহান জাতীয় সংসদে কথা বলেছি। মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দও পাওয়া গেছে। শীঘ্রই খনন কাজ শুরু হবে।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *