পদোন্নতির সুখবর আসছে সরকারি হাইস্কুলে – bnewsbd.com

শিক্ষা-সংস্কৃতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

নাজিউর রহমান সোহেল : দীর্ঘদিন পর পদোন্নতির জট খুলতে যাচ্ছে সারাদেশের সরকারি হাইস্কুলে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) কাছে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা ও পদোন্নতিযোগ্য ফিডারপদে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষকের গ্রেডেশন তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক থেকে ‘সিনিয়র সহকারী শিক্ষক’ (প্রথম শ্রেণির পদ) পদে পদোন্নতির দিতে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। পিএসসির মতামত পেলে খুব দ্রুত বিভাগীয় পদোন্নতির কমিটির সভা (ডিপিসি) আহ্বান করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: মাহবুব হোসেন ভোরের ডাককে বলেন, বিষয়টি স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকের পদটি প্রথম শ্রেণির হওয়ায় এ পদে পদোন্নতি দিতে পিএসসির মতামতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা কমিশনের মতামতের জন্য চিঠি দিয়েছি। মতামত পেলে খুব দ্রুত ডিপিসির সভার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে সচিব।

জানা যায়, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে পাঠানো পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক শূন্য পদে পদোন্নতি দিতে ডিপিসি সভা আয়োজন করতে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্য পদের সংখ্যা, পদোন্নতিযোগ্য ফিডারপদে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ২৭ মের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়। 

বরিশাল শহরের শহীদ আব্দুল রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে ১৫ বছর ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। এরকম আরও হাজার হাজার শিক্ষক রয়েছেন, যারা ৩০ বছর ধরে একই পদে চাকরি করছেন। কিন্তু পদোন্নতি পাননি। অনেকে পদোন্নতির যন্ত্রণা নিয়েই অবসর গ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, সহকারী শিক্ষকরা সিলেকশন গ্রেড থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে সরকারি হাইস্কুলে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে এ পদে পদোন্নতি দেয়া হয়নি। দীর্ঘ চাকরি জীবনে একবারও পদোন্নতি ও সিলেকশন গ্রেড না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকরা।

মো. শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, ১৫ বছর চাকরি জীবনে একবারও পদোন্নতি পাইনি। ২০১৪ সালে টাইম স্কেলপ্রাপ্যতা অর্জন করলেও দেয়া হয়নি। ২০১২ সালে আমাদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে। তখন বলা হয় চাকরিতে যোগদানের পর থেকে চাকরির সময় গণনা করা হবে না। দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর চাকরি আট বছর পূর্ণ হলে টাইমস্কেল প্রাপ্ত হবে-এ কথা বলে টাইমস্কেল বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেলে টাইম স্কেল বাতিল করে দিয়েছে। টাইমস্কেল বঞ্চিত হলে হাইকোর্টে মামলা করে আমরা একতরফা রায় পেয়েছি। বর্তমানে সুপ্রীমকোর্টে মামলা চলমান আছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি হাইস্কুল শিক্ষকদের চাকরি বিধামালায় সিনিয়র শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। সহকারী শিক্ষকের মোট পদের ৫০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা বলা হয়। 

এরপর সৃষ্ট পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া অনেকটাই গুছিয়ে এনেছিল মাউশি। তালিকায় পাঁচ হাজার ৮৫৪ শিক্ষকের নাম ছিল। কিন্তু নীতিমালা নিয়ে কতিপয় শিক্ষক আপত্তি তুললে আটকে যায় সে প্রক্রিয়া। পরে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে বিকল্প কয়েকটি প্রস্তাব দিয়ে শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা পাঠায় মাউশি।

সূত্র আরও জানায়, সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য জেষ্ঠ্যতা সমস্যা নিরসনে ২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিন্ধান্ত দিয়ে বলেছিল, কৃষি শিক্ষকদের জেষ্ঠ্যতা তাদের ১০ গ্রেডে উন্নীত করার তারিখ অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২২ মে থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু এটি চ্যালেঞ্জ করে কৃষি শিক্ষকেরা প্রশাসনিক ট্রাইবনালে মামলা করলে ফের পদোন্নতি আটকে যায়। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ১৯৯৫ সালে ৩৭৮ জন কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়ে ছিলেন ১৪তম গ্রেডে। তাই তারা সে সময় ১৪তম গ্রেডে বেতন পেতেন। আর অন্য শিক্ষকরা পেতেন ১০ম গ্রেডে বেতন।

জানা যায়, ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত আট বছর চাকরি করতে হবে। সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিতে প্রবেশের পাঁচ বছরের ব্যাচেলর অব অ্যাডুকেশন (বিএড) বা ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন (ডিপ ইন অ্যাডু) বা ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচার অ্যাডুকেশন (বি এজ অ্যাডু) ডিগ্রি থাকতে হবে। নানা কারণে অনেক শিক্ষক এই শর্তটি নির্ধারিত সময়ে অর্জন করতে পারেননি। শর্ত অর্জন না করা গত বছর প্রায় দেড় হাজার শিক্ষককে পদোন্নতির তালিকাভুক্ত করে মাউশি। অর্ধ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) শিক্ষকরা অভিযোগ করলে আবারও আটকে যায় পদোন্নতির প্রক্রিয়া। তবে শিক্ষকদের তদবিরে ফের শুরু হয়েছে পদোন্নতি প্রক্রিয়া।

মাউশি সূত্র জানিয়েছে, সদ্য জাতীয়করণসহ সারাদেশে মোট সরকারি হাইস্কুলের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে পুরনো ৩৫১টি সরকারি হাইস্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে প্রধান শিক্ষকদের মোট ৩৫২টি পদের মধ্যে শূন্য ২৩৬টি। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য ১০টি। পাঁচ হাজার ৪৫২জন সহকারী শিক্ষক থেকে সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতি দেয়া হবে। 

সূত্র বলছে, চাকরি বিধামালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি করতে হয়। মাত্র তিন জন শিক্ষক ফিডার পদ পূর্ণ করেছেন। তবে ২৩৩ জনকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুপরিশ করা হয়েছে। চাকরি বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে ২০ শতাংশ সরাসরি পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার শর্ত রয়েছে। আর বাকি ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।

এ বিষয়ে সচিব মো. মাহবুব হোসেন ভোরের ডাককে বলেন, মাউশি তিনজনের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। পদোন্নতিযোগ্য সকল শিক্ষকের তালিকা চেয়ে মাউশিকে চিঠি দিয়েছি। এখন পর্যন্ত তথ্য পাইনি। তথ্য পেলে ডিপিসির সভা ডাকা হবে।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন মাহমুদ সালমী সোমবার ভোরের ডাককে বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে একই পদে চাকরি করছেন শত শত শিক্ষক। পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার এসব শিক্ষকরা মানুষিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত। অনেকে পদোন্নতি না পেয়ে অবসরে চলে যাচ্ছেন। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি করা হলেও এখন পর্যন্ত পদোন্নতি দেয়া হয়নি। 

তিনি আরো বলেন, সরকারি হাইস্কুল শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট কোন পদসোপান নাই। অর্থাৎ পদগুলো কি কি হবে, কত দিন পরে পদোন্নতি হবে। পদোন্নতির ক্ষেত্র তৈরি করা দরকার। সরকারি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষকের পদটি থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর সমপদ ও পরস্পর বদলিযোগ্য পদ ছিল। ওই পদগুলো অনেক আগে নবম গ্রেড হয়ে গেছে। সহকারী শিক্ষক পদটি ১০ গ্রেড রয়ে গেছে। সরকারি হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগের প্রবেশ পদটি নবম গ্রেড উন্নীত করে পদসোপান করা হলে পদোন্নতি ঝামেলা থাকবে না বলে মনে করেন এই শিক্ষক নেতা। 

শিক্ষক নেতা শাহাব উদ্দীন মাহমুদ সালমী জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরতরা তিন বছরের বেশি সময় এ পদে চলতি দায়িত্ব পালন করেছেন। পদোন্নতির পর আরো আড়াই বছর চাকরি করেছেন। সব মিলিয়ে পাঁচ বছর ফিডার পদে চাকরির অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ হিসেবে তাদের পদোন্নতি দেয়া যায়। ২০১৫ সালে প্রমার্জন করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। সরকার প্রমার্জন করেও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে পারে।

তবে সিনিয়র সহকারী ও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নিলেও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কোন খবর নেই। এ পদে কিভাবে পদোন্নতি দেয়া হবে তা নীতিমালায় উল্লেখ নেই। পদোন্নতির উদ্যোগ নিলে জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

 

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *