বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবরে ঘর ছেড়েছিলেন, কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন  – bnewsbd.com

স্বাস্থ্য-চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

আকবর আলী। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের পর সব কিছুই ঠিকই চলছিল তাঁর। সমস্যাটা বাঁধল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড যেন তাঁর জীবন তছনছ করে দিল। হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে কষ্টে ছেড়ে দিলেন সংসার। শুরু করলেন ভবঘুরে জীবন। 

৭৫ এ ঘর ছাড়া আকবর আলী ঘরে ফিরলেন ঠিক ৪০ বছর পর। যখন ফিরলেন তখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তাঁর স্ত্রী আঙ্গুরী খাতুন। লিভারসিরোসিস রোগে দেড় বছর ভুগে ২০১৫ সালে চিকিৎসার অভাবে মারা যান তিনি। 

নিঃস্ব আকবর আলী এখন প্রায় পক্ষঘাতহীন। তাঁর শরীর আর আগের মত কাজ করে না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না তিনি। 

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামে তাঁর বাড়ি। তবে থাকেন ভাইয়ের বাড়িতে। কারণ  নিজের দুইটি টিনের চালা ঘর থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষাণাবেক্ষনের  অভাবে সেখানে বাস করার উপায় নেই। চার মেয়ে এক ছেলে তাঁর। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে উজ্জল হোসেন বেকার। বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকায় জীবন চলছে তাঁর। 

উজ্জল হোসেন জানান, ঢাকা কলেজ থেকে ম্যানেজম্যান্ট বিষয়ে মাষ্টার্স করেছেন (২০১৮) তিনি। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিয়েও চাকরি মেলেনি। অংশ গ্রহন করেছিলেন ৩৮ ও ৪১তম বিসিএস (এডমিন, বোথ ও জেনারেল) পরীক্ষায়। সেটারও ফলাফল আসেনি। এখন পঙ্গুবাবার সেবায় দিনকাটছে।

বাবার চার বিঘা জমি ছিল। বাবার ভবঘুরে জীবন-যাপনের কারণে ভাই বোনদের বড় করে বিবাহ আর আমার পড়ালেখার খরচ জোগাতে গিয়ে সেই জমি বিক্রি করেছিলেন মা। সংসারের বোঝা বইতে গিয়ে অনাহার অপুষ্টিতে ভুগে মা মারা গেছেন চিকিৎসা অভাবে। এখন বাবার অবস্থাও অনেক খারাপ। চিকিৎসা করাতে পারছি না। এখন একটি চাকরি খুবই দরকার বলে জানালেন উজ্জল হোসেন।

 তাঁর বাবার শারীরিক অবস্হা সম্পর্কে তিনি আরো জানান, মায়ের মৃত্যুর পর শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি।  তাঁর গলা ও মাজার রগ চিকন হয়ে গেছে। চলাফেরা করতে পারেন না, অন্যের সহযোগীতায় খাওয়া ও টয়লেটে নিতে হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য মাসে ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন সম্প্রতি তাঁদের বাসায় গিয়ে বাবার খোঁজ খবর নিয়েছিলেন বলে জানান উজ্জ্বল। তিনি বাবার চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য সহযোগীতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ভবঘুরে জীবন যাপন প্রসঙ্গে  আকবর আলী আজকের পত্রিকাকে  বলেন, ‘ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন তিনি। অথচ সেই মানুষটিকে পরিবারসহ হত্যার শিকার হতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের সুফলভোগ করতে পারেননি তিনি। এ শোক সইতে না পেরে ঘর ছেড়েছিলেন। 

গুরুদাসপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফারুক হোসেন জানান, ৭ নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার নুরুজ্জামানের অধীনে পলাশডাঙ্গা ও মানকের চর (ইন্ডিয়ায়) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আকবর আলী। পরে  বগুড়া, রংপুর,কুড়িগ্রাম ও সর্বশেষ তাড়াশের নওগাঁতে ম.ম আমজাদ হোসেনের অধীনে যুদ্ধ করেন তিনি। তাঁর গেজেট নং-১২৩৩,লাল বার্তা ০৩০৪০৫০০৬৪। রাজশাহী কলেজে অনার্সপড়ার সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন  তিনি। 

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একজন ডাক্তার নিয়ে আকবর আলীর বাড়ি গিয়েছিলেন, তাঁকে সরকারি ‘বীরমুক্তিযোদ্ধা নিবাসে’ বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *