বোমা খুঁজে দেবে মৌমাছি – bnewsbd.com

বিজ্ঞান প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

বসনিয়ার যুদ্ধ শেষ হয়েছে ২৬ বছর হলো। কিন্তু বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এখনো সক্রিয় স্থলবোমা বা মাইন রয়ে গেছে প্রায় ৮০ হাজার। এসব বোমা খুঁজে বের করতে ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা ড্রোনের সঙ্গে মৌমাছিদেরও সাহায্য নিচ্ছেন। কিভাবে? জানাচ্ছেন আল সানি: সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকা কুকুর যেভাবে গন্ধ শুঁকে বোমা অনুসন্ধান করতে পারে, ঠিক সেভাবেই মৌমাছিরাও নিজেদের শক্তিশালী ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে বোমা খুঁজে বের করতে পারে।
প্রাণীজগতের অন্যতম ছোট পতঙ্গ মৌমাছি। তবে এদের ঘ্রাণশক্তি এতটাই শক্তিশালী যে, প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার দূর থেকে টিএনটি বা ট্রাইনাইট্রোটলুইন শনাক্ত করতে পারে। মৌমাছির ১৭০টির মতো ঘ্রাণ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষমতাই কাজে লাগিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা। নব্বইয়ের দশকে ঘটে যাওয়া বসনিয়ার যুদ্ধে লুকিয়ে রাখা ল্যান্ডমাইন শনাক্তে মৌমাছি কতটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছে গবেষকদলটি।
ক্রোয়েশিয়ার এই গবেষকদল দীর্ঘদিন ধরে মাইন শনাক্ত করার জন্য মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করে আসছে। আর তাদের চেষ্টা বর্তমানে দেখেছে আলোর মুখ। কিন্তু সব কিছুরই সীমাবদ্ধতা আছে। কয়েক শ বা কয়েক হাজার মৌমাছিকে মাইন শনাক্তের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব, কিন্তু লাখ লাখ মৌমাছিকে কিভাবে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়? মূলত মাইন শনাক্তকরণে প্রশিক্ষিত মৌমাছি নিজেরাই প্রাকৃতিকভাবে অন্য মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এসব প্রশিক্ষিত মৌমাছিদের এখন বলা হচ্ছে ‘প্রাকৃতিক সেনাবাহিনী’।
এই প্রাকৃতিক সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে মানব সেনাবাহিনীর মতো করেই। মৌমাছিদের প্রশিক্ষণের সময় তাদের খাবারের সঙ্গে খুব কম পরিমাণ টিএনটি বা ট্রাইনাইট্রোটলুইন মিশিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাইনাইট্রোটলুইন হলুদ বর্ণের এক ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ, যা মূলত ল্যান্ডমাইন, হ্যান্ড গ্রেনেড ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। এর অণুতে অক্সিজেনের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি থাকায় সামান্য আঘাতেই এটির অভ্যন্তরে দহন বিক্রিয়া ঘটে এবং বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়। দীর্ঘদিন ট্রাইনাইট্রোটলুইন মেশানো খাবার গ্রহণের কারণে ট্রাইনাইট্রোটলুইনের গন্ধকেই খাবারের গন্ধ হিসেবে ধরে নেয় মৌমাছি। আর যেখানে এর গন্ধ পায়, সেখানেই ঘুর ঘুর করতে থাকে। মৌমাছি যখন ট্রাইনাইট্রোটলুইনের গন্ধের সঙ্গে খাবারের গন্ধ মিলিয়ে ফেলে তখনই ধরে নেওয়া হয় মৌমাছিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ সফল হয়েছে। এরপর মৌমাছিদের ছেড়ে দেওয়া হয় সম্ভাব্য মাইন থাকতে পারে এ রকম এলাকায়। খাবারের সঙ্গে ট্রাইনাইট্রোটলুইন মিশিয়ে দেওয়ার কারণে মৌমাছি যখন পরবর্তী সময়ে সেসব এলাকায় খাবারের অনুসন্ধান করা শুরু করে, তখন ট্রাইনাইট্রোটলুইনের গন্ধের দিকে বেশি নজর থাকে তাদের। এমনিতেই মৌমাছি যেকোনো গন্ধের প্রতি প্রচ- সংবেদনশীল হয়। ল্যান্ডমাইন যেহেতু ট্রাইনাইট্রোটলুইন রাসায়নিক ব্যবহার করে বানানো, ফলে মৌমাছির এই সংবেদনশীলতার কারণে ল্যান্ডমাইনের আশপাশে খাবারের খোঁজ করতে থাকে, যা পর্যবেক্ষণ করে একটি ড্রোন। ড্রোনের পাঠানো ছবির সাহায্য আর গাণিতিক এলগারিদম দুটির সমন্বয়ে মাইনের অবস্থান শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। আর এই পদ্ধতিতে তাঁরা প্রায় ৮০ শতাংশের ওপরে সফল। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন মৌমাছি আর ড্রোনের মিলিত চেষ্টায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় থাকা সক্রিয় স্থলবোমাগুলো দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা যাবে।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *