আশুগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরে রাস্ট্রদ্রোহী মামলা থেকে বাঁচতে বিএনপি ছেড়ে আ’লীগে চেয়ারম্যান – দৈনিক ঢাকার ডাক – bnewsbd.com

সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদ :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা শরীফপুর এর চেয়ারম্যানকে বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন অপকর্মের মহানায়ক কারণ। বিএনপি নেতার ছেলে সাইফ উদ্দিন চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ভাংচুর করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহীতার মামলা হয়েছিল এবং এই রাস্ট্রদ্রোহী মামলা থেকে রক্ষা পেতে সাইফ উদ্দিন বিএনপি ছেড়ে দিয়ে নিজের বিভিন্ন অপকর্ম ঢাকতে আ’লীগে যোগ দেয়। এক এক করে ইউনিয়ন আ’লীগের নেতা কর্মীদের সরিয়ে তার তৈরি সব জামাত বিএনপির লোকজনকে পাশে রেখে গায়ের জোরে আ’লীগের চেয়ারম্যান হয়ে যান তিনি। দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মী এলাকাবাসীসহ ইউপির একাধিক সদস্য এসব অভিযোগ করেন তার বিরুদ্ধে।

কে এই বিএনপি নেতার ছেলে সাইফ : প্রায় আশির দশকের কথা। আশুগঞ্জ উপজেলা শরীফপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ওরফে ধন মিয়া চৌধুরীর ৪র্থ সন্তান ও বর্তমার্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন এর বাবা ছিলেন শরীফপুর বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি। সে সময় থেকে তার বাবার দেখানো পথেই হাঁটা শুরু করেন সাইফ উদ্দিন চৌধুরী ও তার পরিবার। সেই সূত্রে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে জেলা বিএনপির সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ আতœীয়ও তারা। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে স¤প্রতি কয়েকদিনে অনুসন্ধানকালে শরীফপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তিরা বলেন: সারা দেশে যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে, সেই সরকার নেই শরীফপুরে এখানকার সরকার হচ্ছে বিএনপির নেতার ছেলে সাইফ উদ্দিন চৌধুরী। কারণ ২০০৯ সালে বিএনপি দলে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ২০১১ সালে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগের সহ সভাপতি মো. আবু জাহের এর বিপক্ষে বিএনপির সমর্থনে নির্বাচন করে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর। ২০১২ সালে আমাদের এলাকায় ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সাইফ চেয়ারম্যান ও তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে এবং আমাদের দলের কিছু নেতা কর্মীকে মারধর করার অপরাধে ইউনিয়ন আ.লীগের নেতা আবুল খায়ের, সাইফ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে ছিলেন।
অনুসন্ধানে অভিযোগকারীরা আরো বলেন : এই রাস্ট্রদ্রোহী মামলা থেকে রক্ষা পেতে সাইফ চেয়ারম্যান বিএনপি দল ছেড়ে দিয়ে। ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন দল ইউনিয়ন আ’লীগে যোগ দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃদ্ধের মাধ্যমে মামলা শেষ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ধারাবাহিকতা বজায়ে রেখে। এক এক করে ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগের নেতা কর্মীদের সড়িয়ে তার তৈরি সব জামাত বিএনপির লোকজনকে পাশে রেখে। পরিষদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য আর কোন পার্থী যেন না আসতে পারে সে জন্য সাইফ চেয়ারম্যানের হুমকি-ধমকি আর অত্যাচারে কারণে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাইনা সবাই বোবা’ হয়ে থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
জাতীয় শোক দিবসে সাইফ চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরে রাস্ট্রদ্রোহীতার মামলা : ২০১২ সালের ১৫ই আগষ্ট শরীফপুর ইউনিয়নে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সাইফ চেয়ারম্যান ও তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ছবি ভাংচুর করে এবং আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মীকে মারধর করার অপরাধে ইউনিয়ন আ’লীগের নেতা আবুল খায়ের, সাইফ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে ছিলেন। সাইফ চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত থাকায় আরো একটি মামলা: খোলাপাড়া শাহ ফরাছত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই বারের হাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আবু বক্কর কে সাইফ চেয়ারম্যান নিজেই আবু বক্কর কে মারধোর করে গুরুত আহত করার করণে। মো. আবু বক্করের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইফ চেয়ারম্যান কে প্রধান আসামী করে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তবে এই মামলা এখন চলমান রয়েছে।
সাইফ চেয়ারম্যনের হাতে জামায়াতের আমীরকে মুক্তিযোদ্ধাদের গণসংবর্ধনা : ২০২০,সালে ২০ ডিসেম্বরে আশুগঞ্জে উপজেলা শরীফপুর ইউনিয়নে জামায়াতের এক আমীরকে মুক্তিযোদ্ধা গণসংবর্ধনা দিয়ে ছিলেন। সাইফ চেয়ারম্যান। আর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী সংসদ সদস্য সরাইলের উম্মে ফাতেমা নাজমা আক্তার (শিউলী আজাদ)। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় আ.লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝেও।
সাইফ চেয়ারম্যান স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করায় সভাপতি থেকে বাদ : সাইফ চেয়ারম্যান খোলাপাড়া শাহ ফরাছত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন সময় ২০১৭-২০১৮ সালে স্কুলের বরাদ্দ টাকা থেকে ৭৮০০০/-টাকা তিনি নিজে আত্মসাত করেন এছাড়াও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এর নামে এক প্রার্থীর থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে ঐ প্রার্থীর ইন্টারভিউতে পাশ না করায় নিয়োগ স্থগিত রাখেন। তার বিভিন্ন অপকর্মে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় এলাকাবাসী মিলে ২০১৯ সালে এই সাইফ উদ্দিন কে সভাপতি পদ থেকে বাদ দেন। সাইফ চেয়ারম্যান বিভিন্ন লোকদের জোর করে জায়গা দখলের থাবা : সাইফ চেয়ারম্যান জোর পূর্বক ভাবে বিভিন্ন লোকদের জায়গা দখলে কাজে ব্যস্ত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে দক্ষিণ তারুয়ার গ্রামের সহিদ মিয়ার,জমি জোর পূর্বক দখল করেন। পরবর্তীতে ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জমি ফেরত প্রদান করেন। এছাড়াও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলামের জমি দখল করে টাকার বিনিময়ে তাকে আবার ফেরত দেওয়া হয়।
বতর্মানে সাইফ চেয়ারম্যান এর সঙ্গে নেই স্থানীয় আ’লীগ : সাইফ চেয়ারম্যান শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগে যোগদান করলেও ইউনিয়ন কমিটিতে তার কোন পদে নেই কারণ। জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে আ’লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ মো.মঈন উদ্দিন মঈনে পক্ষে নির্বাচন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নৌকার বিপক্ষের প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন করায়। আশুগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ ও জেলা আ.লীগের কমিটির সিদ্ধান্তে সাইফ চেয়ারম্যান কে কোন পদ রাখা হয়নি। তায় তিনি নিজেই বিএনপিও ছাত্রদলের সমর্থকদের নিয়ে আমাদের ইউনিয়নে রাজনীতি শুরু করেন। এইসব আলোচিত ঘটনা তখন। আশুগঞ্জ বার্তা সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সাইফ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আ’লীগের নেত্রী বলেন, সাইফ চেয়ারম্যান দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে নিজের বøক তৈরি করেছেন। তাই বেশির ভাগ নেতাকর্মীরা সাইফ চেয়ারম্যান এর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কারণ তার রয়েছে শক্তিশালী এক লাঠিয়াল বাহিনী। ওই বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। এবিষয় জানতে ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হক সুমন চৌধুরী বলেন, সাইফ চেয়ারম্যানকে বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন অপকর্মের মহানায়ক। কারণ ১০ বছর ধরে তিনি গায়ের জোরে আ’লীগের চেয়ারম্যান হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ধারাবাহিকতা বজায়ে রেখে। এক এক করে ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগের নেতা কর্মীদের সড়িয়ে তার তৈরি সব জামাত বিএনপির লোকজনকে পাশে রেখে। এবারও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য আর কোন পার্থী যেন না আসতে পারে সে জন্য হুমকি-ধমকি আর অত্যাচারে কারণে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাইনা সবাই বোবা’ হয়ে থাকতে হয়। এবিষয়ে অভিযুক্ত সাইফ চেয়ারম্যান এর নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
এসব অভিযোগ স¤পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট আমি কিছু জানি না। আমার শরীর খারাপ থাকার কারণেই বাড়িতে আছি। আপনে বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির কোন পদে ছিলেন না কি। এস¤পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিভিন্ন কথা কৌশলে এড়িয়ে যান।

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *