কোপা আমেরিকা : কীভাবে শুরু ও টুর্নামেন্টের টুকিটাকি – bnewsbd.com

খেলাধুলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিনিউজবিডি.ডটকম :

রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা বাংলাদেশেও। কোপা আমেরিকার মোহটা এমনই। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকে ভারত কিংবা বাংলাদেশ। উত্তাপটা টের পাওয়া যায় সবখানে। হবে নাই বা কেন! পেলে-ম্যারাডোনা থেকে হালের লিওনেল মেসি-নেইমার জুনিয়র সবাই যে নিজের ফুটবল কাড়িকুড়ি দেখান এই টুর্নামেন্টে।

তার ওপর আবার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্ট বলে কথা। প্রাচীন কথাটা হয়তো অনেকের মনে বিধবে না। তাই বলা ভালো, কোপা আমেরিকার শুরু বিশ্বকাপ ফুটবলেরও আগে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও এই আসর প্রথম হয় ১৯০৯ সালে।

মূলত ব্রিটিশদের হাত ধরেই ফুটবল পৌঁছায় দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে। পেরুতে ১৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লিমা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব’। সেটিই ওই অঞ্চলের প্রথম ফুটবল ক্লাব। এরপর দ্রুতই দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল। আর্জেন্টিনায় ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম ফুটবল ক্লাব।

এর ২০ বছরেরও বেশি সময় পর ১৮৯৩ সালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা হয়। যেটি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের প্রথম ফুটবল সংস্থা। তাদের হাত ধরেই ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ায় এক আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। আর্জেন্টিনার সঙ্গে সেবার অংশ নেয় উরুগুয়ে ও চিলি। টুর্নামেন্টের উপলক্ষ অবশ্য ছিল ‘মে-বিপ্লবের’ শতবর্ষপূর্তি।

পরে ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংগঠন ‘কনমেবল’ ওই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্বীকৃতি না মিললেও ওই আসরই জন মানুষের কাছে ফুটবলকে পৌঁছে দেয়।

এর সাত বছর পর আরও একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। দেশটির স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টের নাম দেওয়া হয় ‘ক্যাম্পিয়ানোটো সুদামেরিকানো ডি ফুটবল’। এই আসরকেই কোপা আমেরিকার প্রথম আসর হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কনমেবল। যেটির চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে আর স্বাগতিক আর্জেন্টিনা হয় রানার্স আপ।

এক বছরের ব্যবধানে আবারও আয়োজিত হয় কোপা আমেরিকা। দ্বিতীয় আসরের স্বাগতিক হয় উরুগুয়ে। চ্যাম্পিয়নও হয় তারাই। এরপর কোপা আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজিত হয়েছে ৪৭বার। বেশির ভাগ সময়ই মানা হয়নি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান। নানা উপলক্ষে বসেছে এই আসর। টানা কয়েক বছরও হয়েছে এই টুর্নামেন্ট।

বদলেছে দলের সংখ্যাও। অতিথি দেশ হিসেবে যোগ দিয়েছে বেশ কিছু দল। তাতে বদলেছে খেলার ফরম্যাট। স্বাগতিক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কোনো বাছ বিচার ছিল না কনমেবলের। তবে এতকিছুর পরও লাতিন ফুটবলের মোহ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। যুগে যুগে ওই অঞ্চলের মহাতারকারা ধরে রেখেছেন টুর্নামেন্টের জৌলুশ।

এক নজরে কোপা আমেরিকা-

*প্রথম স্বাগতিক- আর্জেন্টিনা
*সবচেয়ে বেশি স্বাগতিক- আর্জেন্টিনা (৯ বার)
*প্রথম চ্যাম্পিয়ন- উরুগুয়ে
*সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন- উরুগুয়ে (১৫ বার)
*এক টানা সবচেয়ে বেশি বার চ্যাম্পিয়ন-আর্জেন্টিনা (তিনবার, ১৯৪৫,৪৬,৪৭)
*সবচেয়ে বড় জয়- আর্জেন্টিনা ১২-০ ইকুয়েডর
*টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল- আর্জেন্টিনা (৪৭৭টি)
*এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল- ব্রাজিল (৪৬টি, ১৯৪৯ সাল)
*সর্বোচ্চ গোলদাতা- নর্বের্তো মেন্ডেজ (আর্জেন্টিনা, ৩ আসর) ও জিজিনহো (ব্রাজিল, ৬ আসর) ১৭টি
*এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল- জাইয়ার ডি রোসা পিন্টু, (ব্রাজিল, ১৯৪৯ সাল), হুমবার্তো মাসচিও (আর্জেন্টিনা, ১৯৫৭ সাল), এবং জাভিয়ের অ্যামব্রোইস (উরুগুয়ে, ১৯৫৭ সাল) ৯টি

বিনিউজবিডি.ডটকম

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সংবাদ পরিবেশনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিয়ে “বিনিউজবিডি.ডটকম” বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনাবলী যা মানুষের দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে নাড়া দেয় এরূপ ঘটনা যেমন, শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, অপরাধ, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য যে কোন আলোচিত বিষয়ের দৃষ্টি নন্দন তথ্য চিত্রসহ সংবাদ পাঠিয়ে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে আত্ম প্রকাশ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর মুহুর্তেই পাঠকের মাঝে পৌছে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে একঝাঁক সাহসী তরুণ সংবাদ কর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সহ দেশের বাহিরে বিভিন্ন দেশে সংবাদদাতা নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত লেখা-লেখিতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশীও প্রবাসী নাগরিক “বিনিউজবিডি.ডটকম” এর সংবাদদাতা/প্রতিনিধি হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *